Saturday, July 20, 2013

এমনি এমনি...

"কাইলকুর ছাগি, ভাত রে কয় অন্ন"- এমন কথা প্রায়ই শুনতাম। আর আমার আব্বা ও আমাকে মাঝে মাঝে বলতেন। এই যেমন আব্বা কিছু একটা করলেন আমার তা পছন্দ হল না, উঠতি বয়স, কৈশোর কে সবে বিদেয় জানিয়েছি, দিলাম বলে কিছু একটা। ব্যস, শুরু হয় গেলো আব্বার শব্দবাণ, আমি জর্জরিত হওয়ার আগেই ঘর থেকে হাওয়া। বুঝলাম যে শুরু হয়ে গেছে, পালিয়ে বাচি, আর পালাতে পালাতে যে গুলো কানে আসতো তাঁর মধ্যে ছিল এটা ছিল অন্যতম। আর ও কিছু ছিল যেমন "মুতর গন্ধ গেসে না, দেখরায় নি ঝেং" প্রকারের বেশ মজার মজার শ্লোক। আমার অবশ্য এগুলোর কোনটাই গায়ে লাগতো না বরং উলটো ভালো লাগতো। এই প্রবাদ গুলো নিয়ে ভাবতাম কিভাবে এগুলোর জন্ম হল আর কে ই বা প্রথম ব্যবহার করল। ভাবা ভাবি গুলো বেশি দূর গড়াবার আগেই জুটে যেতো আরও হাজারো উল্লেখযোগ্য ব্যস্ততা, যেমন পাড়া ক্রিকেট, বিকেলের আড্ডা এবং অনেক কিছু। তারপর আবার সেই রোজকার রুটিন।

সে রুটিনের ছুটি আজ প্রায় দশ বছর। নেই সেই কথার কামান, নেই সেই অফুরন্ত আড্ডা আর ক্রিকেটের ময়দান। এখন যখন নিজের পায়ে দাড়িয়ে, বুঝি সেদিনের মর্ম আর সাথে এও বুঝি যারা আমাদের কথা শুনাতেন তাঁদের কি পরিশ্রম আর খাটুনি আমাদের পেছনে। আজ কদিন থেকে ঘরে একা, রান্না ঘরের বেসিনে বাসন প্রায়ই এঁটো থাকে, কালকে ধোব বলে বলে কালকে টা বেশ দেরি করে ফেলে আসতে। আর যখন রান্নার জন্য বাসন অবশিষ্ট থাকে না তখন 'কালকে' টা চট করেই 'এখন' হয়ে যায়। কিন্তু এই বাসন ধোয়া টা কিন্তু কম পরিশ্রম নয় এখন বুঝি, দাড়িয়ে দাড়িয়ে ধোয়াতে পাঁচ মিনিটের বেশি হলেই কোমরে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। অথচ ঘরে আমার মা সারা জীবন তো বাসন ধুয়েই গেলেন, তাঁর উপর আমাদেরকে খাওয়ানো, পড়ানো, স্কুল করা সবকিছুই তো করলেন, কিন্তু কই কোনদিন তো জিজ্ঞেস ই করিনি, মা তোমার কি পিঠে ব্যথা হচ্ছে? এখন মা কে ফোন করে বলি, বাসন ধোয়ার মত কষ্ট তো আর কিছুই নেই, তুমি কিভাবে করলে এতকাল? মা হাসেন, বলেন ধুর, অভ্যাস হয়ে যায়।

আজ তাই মনে হল আমি আমার সকল বন্ধুদেরে বলি, আমাদের ঘরে যাদের মা, বোন, বউ আছে তাঁদের অন্তত সপ্তাহে এক বার হলে ও ঘরের কাজে হাত বাড়াই। দিয়েই দেখি না একদিন ছুটি, না আজ তোমাদের রাঁধতে হবে না, বাসন মাজা, কাপড় কাঁচা সব আমরাই করবো। তারপর সুযোগ পেলে না হয় ফেসবুকে আসবো, না হয় আসবো না, একদিনে আর কি আসে যায় ফেসবুকের? কি পারবো না এমন করতে??

২১শে জুলাই, ২০১৩

মাদ্রাজ